কুকুর নিয়ে হাদিস। কুকুর সম্পর্কে রাসুলের নির্দেশনা

কুকুর নিয়ে হাদিস

আমাদের আশেপাশে বিচরণকারী প্রণীদের মধ্যে কুকুর অন্যতম। কুকুর অনেক প্রভুভক্ত প্রাণী হলেও ইসলাম কেন কুকুর পালন করতে নিষেধ করেছেন; সেটাই আলোচনা করব।

Watch this video on YouTube.

প্রথমেই বলে রাখি ইসলাম কুকুর পালনকে একবারে নিষেধ করেনি। শুধুমাত্র কুকুর পালনে কিছু শর্ত দিয়েছেন।

কুকুর পালনে নিষেধ করেছেন, তাই বলে কুকুরের উপর নির্যাতন করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। বরং এক হাদিসে আসছে,

রাসুল (সঃ) বলেছেন,

‘এক ব্যভিচারিণীকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। সে একটি কুকুরের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন সে দেখতে পেল কুকুরটি একটি কূপের পাশে বসে হাঁপাচ্ছে। রাবী বলেন, পানির পিপাসা তাকে মুমূর্ষু করে দিয়েছিল। তখন সেই নারী তার মোজা খুলে তার উড়নার সঙ্গে বাঁধল। অতঃপর সে কূপ হতে পানি তুলল (এবং কুকুরটিকে পানি পান করালো) এ কারণে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হল।’

সহীহ বুখারী- ৩৩২১

তাহলে আমরা বুঝলাম কুকুরের উপর আমাদের সদয় হতে হবে। কখনও কুকুরকে নির্যাতন ও অনাচার করা যাবে না।

কুকুর নিয়ে হাদিস

কুকুর পালন সম্পর্কিত হাদিস

মসনাদে আহমদ হাদীস শরীফে আসছে, রাসুল (সঃ) বলেছেন,

‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালন-পালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়।’

মুসলিম : হাদিস ১৫৭৫

অন্য হাদিসে আছে,

‘এক কিরাত হলো, উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ।’

মুসনাদে আহমদ : হা. ৪৬৫০

এই হাদিস থেকে বুঝলাম শখ করে কুকুর পালন করা যাবে না। নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য অবশ্যই কুকুর পালন করা যাবে।

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে পেয়েছেন,- কুকুরের লালায় মারাত্নক কিছু জীবাণু থাকে। যেগুলো মানুষের জন্য প্রচন্ড ক্ষতির কারণ হবে।

যদি আপনি বাড়িতে কুকুর পেষেন তাহলে আপনার পাশাপাশি আপনার বাচ্চার সাথে কুকুর মেলামেশা করবে। বিভিন্ন জিনিস জিহ্বা দিযে চাটবে এবং রোগ ছড়াবে। তাই বিশেষজ্ঞরা সবসময় বাড়ি থেকে কুকুরকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন।

কুকুর পালা যাবে, তবে সেটা হতে হবে :-

  • ফসলের হেফাজত
  • ঘর-বাড়ি, দোকান ইত্যাদি পাহারাদান
  • অপরাধী ধরা
  • শিকার করা

এই উদ্দেশ্যের জন্য অবশ্যই কুকুর পালন করা যাবে।

মনেরাখবেন কুুকুর কোনো নাপাক প্রাণী নয়। কুকুরের লালা নাপাক। তাই কুকুরের শরীরে হাত দিলে আপনার শরীর নাপাক হবে না বা আপনাকে ফরজ গোসল করতে হবে না।

তবে কুকুরের শরীর থেকে লালা বা তরলকিছু আপনার শরীর বা জামাকাপড়ে লাগলে অবশ্যই তিনবার পানি দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে নিতে হবে। গোসল করা জরুরী নয়।

কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দিলে বা চাটলে সেটাকে তিনবার সম্ভব হলে সাতবার ধোবার কথা হাদিসে আসছে।

তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর পানি পান করে, তখন সে যেন তা সাতবার ধুয়ে নেয়।

বুখারী ১৭২, মুসলিম ২৭৯

ঘরে কুকুর রাখা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ কুকুরের ব্যাপারে ইসলামের কঠোর নির্দেশ কেবল এটাই যে শখ করে ঘরে কুকুর রাখা নিষেধ। হাদিস শরিফে আছে, ‘যে ঘরে কুকুর আছে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না।’ (বুখারি শরিফ : হা. ৫৫২৫)

Leave a Comment