গলায় মাছের কাটা বাধলে দূর করার ৯টি উপায়

মাছ বাঙালিদের কাছে খুবই প্রিয় একটি খাবার। প্রতি বেলায় ভাতের সঙ্গে মাছ না হলে যেন চলেই না। তাইতো আমাদের বলা হয়, মাছে ভাতে বাঙালি।

মাছে ভাতে বাঙালী হলেও কিছু কিছু সময় মাছ খাওয়া আমাদের জন্য বিপদজ্জনক হয়ে দাড়াই। গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে বোঝা যায়।

যেমন হঠাৎ করে খেতে খেতে মাছের কাটা গলায় বাধলে কি করবেন।

আমি জানি অনেকে বলবেন গলায় ঝাড়ফুক করতে না হয় ডাক্তারের সরণাপন্ন হতে। আমি এখনে ৭টি ঘরোয়া উপায় আলোচনা করব; যেগুলো ডাক্টার বা কবিরাজের কাছে যাওয়ার আগে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

মাছের কাটা গলায় বাধলে দূর করার ঘরোয়া উপায়

১. শুকনা ভাতের দলা: শুকনো সাদা ভাত চটকে দলা পাকিয়ে; ছোটো বলের মতো বানিয়ে গিলে খেয়ে ফেলুন। তারপর পানি পান করুন।

পথমবারে না হলে ৭-৮ বার উপায়টি অবলম্বন করুন। এভাবে ভাত ও পানি খেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাঁটা নেমে যায়। শুকনো মুড়ি বা গরম দুধে ভেজানো পাউরুটি খেয়েও সমাধান পাওয়া যায়।

২. কাশির টেকনিক: অনেক জোরে দু-চারটা কাশি দেয়ার মাধ্যমে অনেক সময় আটকে থাকা মাছের কাঁটা কাশির দমকে ছুটে গিয়ে সামনে চলে আসে এবং বের হয়ে যায়।

৩. ভিনেগার সামান্য ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ার মাধ্যমে সহজেই গলার কাটা দূর সহজে করতে পারেন।

৪. লবণ ও লেবুর মিশিয়ে খান: মাছের কাঁটা গলিয়ে দেওয়ার জন্য লবণ ও লেবুর মিশ্রণও বেশ কার্যকর। এক টুকরো লেবুতে হালকা লবণ মিশিয়ে লেবুটি চুষে খেয়ে নিন। লেবুর অম্লতা ও লবণের লবণাক্ততা মিলিতভাবে কাঁটাটিকে পাতলা করে গলিয়ে দেবে। ফলে সহজে গলা থেকে কাঁটাটি নেমে যাবে।

৫. অলিভ অয়েল: গলায় কাঁটা বিঁধলে দেরি না করে অলিভ অলিভ অয়েল খেয়ে নিন। অলিভ অয়েল অন্য তেলের তুলনায় বেশি পিচ্ছিল। তাই সহজে গলার কাটা পিছলে নেমে যাবে।

৬. কোকা-কোলা পান করুন: গলায় আটকা কাঁটা নামানোর আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে কোকাকোলা। গলায় কাঁটা আটকার সঙ্গে সঙ্গে এক গ্লাস কোক পান করলে তা নরম হয়ে নেমে যায়।

৮. পাকা কলা খান: পাকা কলার ছোট ছোট খন্ড করে গিলে খেতে পারেন। পাকা কলার মিউজিলেজের পিচ্ছিলভাব গলায় ফুটে থাকা কাঁটাকে সহজে বিতাড়িত করতে সাহায্য করে।

৯. হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা: গলায় আটকা মাছের কাঁটা নামানোর সর্বাধিক কার্যকরী চিকিৎসা হচ্ছে হোমিওপ্যাথি; এজন্য আপনাকে নিকটস্থ ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

সতর্কবার্তা:

গলায় মাছের কাটা বাধলে কোনোভাবে অবহেলা করবেন না। যদি ঘরোয়া উপায়ে কাজ না দেয়; দ্রুত ডাক্টারের সরণাপন্ন হন।

অনেকে হয়তো ভাবতে পারে, গলায় কাটা বাধা সামান্য ব্যপার। হ্যা এটি সামান্য ব্যাপার কিন্তু এখান থেকে জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

ক্যান্সার, টিউমার এসব ছোট্ট ছোট্ট ক্ষত থেকেই জন্ম নেয়। সাবধানে থাকুন, সুস্থ থাকুন সেই কামনা করে আজকের মতো শেষ করছি।

Leave a Comment