বাড়ি থেকে কাজ VS সম্পর্ক: কাজের পাশাপাশি সম্পর্কগুলোকে তাজা রাখুন।

করোনা মহামারীর শুরুর পর থেকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ”বাড়ি থেকে কাজ” পদ্ধতির সঙ্গে কমবেশি সবাই পরিচিত।

তবে বাসায় থেকে বাসার বিভিন্ন কাজ সামলিয়ে একই সময়ের মধ্যে অফিসের কাজ করার বিষয়টা আসলেই জটিল। বিশেষ করে যাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি।

করোনার সময়ে আমরা একে অপরের পাশে থেকেও নিজেদেরকে সময় দিতে পারছি না। কারণ কাজের মানষিক চাপ!!

ফেমিনা ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, বাড়তি কাজের চাপের পাশাপাশি ৪৫ শতাংশ কর্মী বাড়তি ভিডিও মিটিং এবং ৪০ শতাংশের ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় মানসিক চাপ বাড়ায়।

 ভারতের মনোবিজ্ঞানী রিশমা শাহ, কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন যেগুলোর জন্য আপনার দিন দিন মানষিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে।

মানুষের যে যে সমস্যাগুলি তৈরি হচ্ছে।

# মানসিক চাপ (mentality pressure) 

একই জায়গায় বসে দুটি কাজ  করার ফলে, আমাদের ব্রেন বুঝে উঠতে পারে না কখন কি করব।

ঘরে থাকলে বা অফিসে কাজ করার সময় নিজ নিজ কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ।

মানসিক চাপ (mentality pressure) 
মানসিক চাপ (mentality pressure) 

কিন্তু ঘরে বসে অফিস করার সময় একই জায়গায় থেকে দুই ভূমিকা পালন করা মানসিক চাপ বাড়ায়। এতে পরিবার বা কাজ কোনটার দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।

# সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারা

ঘরে থেকে অফিসের কাজ করায় অনেকেই কাজ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন না। কখন কোনটার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে তা বুঝে উঠতে না পারার কারণে ব্যক্তিগত জীবনে দেখা দেয় নানান সমস্যা।

অনেক সময় কর্ম জীবনে সফল হতে গিয়ে পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু তা সবসময় হওয়া ঠিক নয়।

আবার অনেকসময় কাজের সময়ের বাইরেও কাজ নিয়ে চিন্তা করার ফলে সম্পর্কগুলোর ভিতর ফাটল ধরছে।

# দায়িত্ব ভাগ করে নিতে সমস্যা হয়

একই স্থানে বসে কাজ করার ফলে, কার কখন কোনটা করা উচিৎ বুঝতে না পারা। এতে অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর ভিতর গন্ডগোলের / ঝগড়ার সৃষ্টি করছে।

দায়িত্ব ভাগ করে নিতে সমস্যা হয়
দায়িত্ব ভাগ করে নিতে সমস্যা হয়

অনেকে মানুষিক হতাশার মধ্যে চলে যাচ্ছে, অনেকে তো এসব বিষয়ের জন্য আত্নহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

#জায়গা জায়গা ভাগ করে নেওয়া

ঘরে বসে অফিসের কাজ করার আরেকটি সমস্যা হল একই কাজের জায়গা সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। দুজনের একই সময়ে অনলাইন মিটিং হলে বা কাজের চাপ বাড়লে মেজাজও চড়ে যেতে পারে। ফলে বাড়তে পারে কলহ। তাছাড়া নেটওয়ার্কের সমস্যা, বাইরের শব্দ ইত্যাদি কাজ ও মিটিংয়েও বিভ্রাট সৃষ্টি করে।

সমস্যার চমৎকার কিছু সমাধান

# যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি

সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধানের চেষ্টা করা করুন। যেমন- কার কখন কোন কাজ তার আগে থেকেই তালিকা করে রাখা ভালো। এতে ভুল বুঝাবুঝির ঝুঁকি কমে।

সবসময় কাজের ভিতর ক্লিয়ারিটি রাখুন ও নিজের দায়িত্ব পালন করতে থাকুন।

# একটি বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়া থেকে বিরত থাকুন

অনেকে আছে চরমপন্থা অবলম্বণ করে যেমন:- শুধমাত্র অফিসের দিকে মনোযোগ দেয়, সঙ্গীর খেয়াল না রাখা।

এগুলো আপনার জীবনকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে। কারণ একজনের জীবনে আয়ের পাশাপাশি সঙ্গীর গুরুত্ব রয়েছে।

তাই কাজের সময় কাজ, সঙ্গীর সাথে সময় কাটানোর সময় ; খোলা মনে সময় কাটান। আপনার জীবনে সমস্যা কম আসবে।

 সঙ্গীর সাথে সময় কাটান
সঙ্গীর সাথে সময় কাটান

# অন্যের দোষদেয়া বন্ধ করুন

অনেক দম্পতি কিছু হলেই একজন আরেকজনের দোষ দিতে ব্যাস্ত।

যদি অন্যের দোষ না দিয়ে নিজে সংশোধন হন তবেই তা বেশি ফলপ্রসূ। আবার সমস্যাটা খুজে দুজনে মিলে সমাধান করতে পারেন।

সবসময় দায়িত্ব নিতে চেষ্টা করুন; সঙ্গীর খেয়াল রাখুন। মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করুন।

Leave a Comment