বিড়াল নিয়ে হাদিস। বিড়াল পোষার উপকারিতা

বিড়াল নিয়ে হাদিসবিড়াল পোষা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে সবকিছু এই পোস্টে আলোচনা করা হবে।

Watch this video on YouTube.

ঘরে যদি কোনো জ্বীনের অস্তিত্ব থাকে, তবে তার সাথে মোকাবেলা করার মতো শক্তি আল্লাহ বিড়ালকে দিয়েছেন। বিড়ালটি জ্বীনের সাথে থাকা নেগেটিভ শক্তিকে শোষন করতে পারে।

শুধু তাই নয়; বিড়ালের শরীরে আল্লাহ এমন ব্যাক্টেরিয়া দিয়েছেন। যা কিনা আমাদের আশে পাশে থাকা সব ধরনের নেগেটিভ এনার্জিকে শোষন করে নেয়।

এছাড়া বিজ্ঞানীরা বলেছেন,- আমরা যখন রাতে ঘুমাতে যাই তখন ঘরে পোষা বিড়াল সারারাত ধরে আমাদের শরীর থেকে নেগেটিভ এনার্জি শোষন করতে থাকে।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন বিড়ালের মাঝে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন- যার কারণে এমন সুন্দর একটি মাখলুখ আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

রাসুল (সঃ) বিড়ালকে পছন্দ করতেন। রাসুলের এক সাহাবীও অনেক বিড়াল পছন্দ করতেন। এই কাজটি রাসুল (সঃ) অনেক পছন্দ করেন এবং সেই সাহাবীকে তিনি আদর করে আবু হুরাইরা বলে ডাকতেন।

আবু হুরাইরার বাংলা অর্থ করলে হয় ”বিড়ালের পিতা”।

গবেষণা থেকে জানতে পারা যায়, আজ থেকে ৮০০০ বছর আগে জঙ্গলের বিড়ালরা খাবারের খোজে বসতীতে আসতে শুরু করে। সে সময় জমিতে প্রচুর ইদুরের উৎপাত ছিল; যাতে কৃষকরা অনেক কষ্টের ভিতর দিন কাটাচ্ছিল।

বিড়াল এসে ইদুর খাওয়া শুরু করে। এতে চাষীদের অনেক লাভ হয়। এবং মানুষের সাথে বিড়ালের একটি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়। বর্তমান বিশ্বে প্রচুর মানুষ শখের বসে বিড়াল পালন করে।

বিড়াল পালন করা ইসলামে অনুমতি আছে। শুধু তাই নয়, বিড়ালের যত্নে নেয়া প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। কারণ আমাদের নবীকরিম (সঃ) বিড়াল পছন্দ করতেন।

বিড়ালকে কষ্ট দেয়ার কারণে বনী ইসরাইলের এক নারীর কবরে আযাব হবে।

বিড়াল নিয়ে হাদিস

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ,আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়। সে বিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল, অবশেষে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়। এ কারণে মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করল। বর্ণনাকারী বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আল্লাহ ভালো জানেন, বাঁধা থাকাকালীন তুমি তাকে না খেতে দিয়েছিলে, না পান করতে দিয়েছিলে এবং না তুমি তাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, তা হলে সে জমিনের পোকা-কামড় খেয়ে বেঁচে থাকত।

--(সহিহ বুখারী,২৩৬৫)

বিড়ালের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।

বিড়াল ঘরে থাকলে কি নামজ হয়?

হ্যা, বিড়াল ঘরে থাকলে নামাজ হবে। তবে কুকুর ঘরে থাকলে নামাজ হয় না। তাই যারা কুকুর পুষছেন এখনই সচেতন হোন।

বিড়াল যে পবিত্র সেটি নিয়ে হাদিস:-

দাউদ ইবনু সা-লিহ ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে তার মাতার সূত্রে বর্ণিত। তার (মায়ের) মুক্তিদানকারিণী মুনীব একবার তার মাকে কিছু ‘হারীসাহ্’ নিয়ে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। তার মা বলেন, আমি গিয়ে তাকে সালাতরত পেলাম। তিনি তখন আমাকে (হাত দিয়ে) ইশারা করলেন, ‘তা রেখে দাও’। তখন একটি বিড়াল এলো এবং তা হতে কিছু খেল। এরপর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) শেষ করে বিড়ালের খাওয়া স্থান থেকেই খেলেন এবং বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

বিড়াল নাপাক নয়। ওটা তোমাদের আশেপাশে ঘন ঘন বিচরণকারী জীব। তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] আরো বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিড়ালের উচ্ছিষ্ট (পানি) দিয়ে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে দেখেছি। (আবূ দাঊদ)

বিড়াল সর্বদা নাপাক বস্তু হতে দূরে থাকার চেষ্টা করে। তবে বিড়াল যদি আপনার ঘর নাপাক করে তবে অবশ্য দ্রুত সেটি পরিষ্কার বরবেন।

বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা দেখাবেন। ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মতো শেষ করলাম।

Leave a Comment