প্রতিদিন ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা

প্রতিদিন ব্যায়াম করার উপকারিতা কম-বেশি সবারই জানা আছে।  তবে নিয়ম মেনে ব্যায়াম করাটা অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

কেননা নিয়ম মেনে ব্যায়াম না করলে শরীরের উপকারিতা চেয়ে অপকারিতা হবে বেশি; কয়েক দিন ব্যায়াম করলেন আবার কয়েক দিন ব্যায়াম ছেড়ে দিলেন, এরকম ব্যায়াম করলে চলবে না।

এতে শরীরের ক্ষতি হবে। তাই, সঠিক ভাবে ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম করার ফলে শরীরিক ও মানসিক অনেক উপকারিতা আসে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক জরিপে দেখা গেছে যে, নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে শতকরা ১৭ ভাগ মানুষ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস আক্রান্ত হয়।

আবার ১২ ভাগ মানুষ বৃদ্ধ বয়সে পড়ে যাওয়া জনিত সমস্যা ভোগে এবং ১০ ভাগ মানুষ স্তন ও অন্ত্রের ক্যান্সাররের জন্য দায়ী।

”ফেলে রাখলে, মরচে পড়ে”  অথবা  “ব্যবহার কর, নয়তো ক্ষয় হবেই” এরকম বাক্য কম-বেশি সবাই শুনেছি। এই কথাগুলো শরীরের সাথে মিলে যায়।

আপনি যদি শরীর একেবারেই ব্যবহার না করেন, তবুও ক্ষয় হবে। আপনার শরীর বা পেশিগুলো হয়ে পড়বে নিস্তেজ, থলথলে, দুর্বল।

আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকঠাক ভাবে কাজ করবে না। ব্যয়াম না করার ফলে শরীরের জয়েন্টগুলো নরম বা অনমনীয় হয়ে পড়ে।

“শরীর কাজে না লাগানো অনেকটা ধূমপান চেয়েও ক্ষতিকর”। চলুন জানা যাক, ব্যায়াম করার ১০টি গোপন উপকারিতা।

প্রতিদিন ব্যায়াম করার উপকারিতা:

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো রোগ। প্রত্যকটা মানুষই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রোগমুক্ত থাকা প্রত্যেকটা মানুষই চায়।

রোগমুক্ত থাকতে হলে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। শরীরের ফিটনেস ধরে রাখা ও ভালো স্বাস্থ্য জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা খুবই জরুরী। 
ব্যায়াম করার ফলে বড় বড় কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যেমন : ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি।

শরীর সুস্থ রাখতে হলে ব্যায়াম কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন ব্যায়াম করার ফলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে; তাই, প্রতিনিয়ত ব্যায়াম করতে হবে।

২. শরীরকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে

শরীরে মাংসপেশী গাঁথুনি যার যত ভালো, সে তত বেশিই শক্তিশালী। প্রতিটি পেশিকে আলাদা আলাদা ভাবে গড়ে তোলা যায় ব্যায়ামের মাধ্যমে।

ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার পেশিকে যেভাবে বানাতে চান, সেই ভাবে করতে পারবেন। তাই, শরীর শক্তিশালী করতে চাইলে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।

৩. যৌন জীবনে উপকারিতা

প্রতিদিন ব্যায়াম করার উপকারিতা :যৌন জীবনে উপকারিতা

যৌন জীবনের জন্য ব্যায়াম অন্ত্যত গুরুত্বপূর্ণ । কেননা দাম্পত্য জীবনে যৌন সুখ পুরো সংসারের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

যাদের যৌন জীবনে অনাগ্রহ ও জড়তা কাটছে তাদের জন্য ব্যায়াম অন্ত্যত জরুরী।

ব্যায়াম করার ফলে শরীরে টেস্টোস্টেরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যেটি সাধারণত যৌন হরমোন নামে পরিচিত।

টেস্টোস্টেরন বেশি থাকা মানে শরীরের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

যৌন মিলনের স্থায়িত্বকাল বৃদ্ধি, যৌনস্পৃহা বৃদ্ধি ও দাম্পত্য জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন সবই ব্যায়াম করার ফলে।

৪. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

ইতোমধ্যে আমরা অনেকেই জানি পর্যাপ্ত হাঁটাহাঁটি করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকে না।

যারা ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের উচিত খাবার নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি নিয়মিত সকালে ও বিকালে ব্যায়ামের জন্য বের হওয়া।

প্রতিদিন ৩০ মিনিট সকালে ও বিকালে নিয়মিত জজ্ঞিং বা যেকোনো ধরনের ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

যাদের নাই তাদের ও উচিত অন্ততপক্ষে সকাল ও বিকালে ২০ মিনিট করে হাঁটা। তাহলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

৫. মন মেজাজ ভালো ও উৎফুল্ল রাখেঃ

মন মেজাজ ভালো ও উৎফুল্ল রাখতেও এর ভূমিকা অনন্য। এটি আপনার মুড বা মেজাজ উন্নত করে এবং বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমায়।

ব্যায়াম মস্তিষ্কের যে অংশে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরি করে।

এটি মস্তিষ্কের হরমোন সেরোটোনিন এবং নরপাইনফ্রাইন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে, যা বিষণ্নতার অনুভূতি উপশম করে।

প্রতিদিন ব্যায়াম করার উপকারিতা : মন মেজাজ ভালো ও উৎফুল্ল রাখেঃ

আপনি যখন দিনের শুরতে ২০/৩০ মিনিট খোলামেলা মনোরম পরিবেশে জগিং করতে যাবেন; তখন সারাদিনটা ভালো যাওয়ার সম্ভবনা থাকবে এবং মন মেজাজ ভালো ও উৎফুল্ল থাকবে।

৬. মস্তিষ্ক, স্মরণ শক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ

মস্তিষ্ক ও স্মরণ শক্তি বৃদ্ধির জন্য আমরা কত কিছুই না করে থাকি। এবং কেই বা না চাই মস্তিস্ক ভালো ও সুস্থ রাখতে।

দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, আমরা আধৌ জানি না মস্তিষ্ক, স্মরণ শক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য যা করছি, সেগুলো উপকারী কিনা।

মস্তিষ্ক, স্মরণ শক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে উঠে ৩০ মিনিট প্রাকৃতিক ও মনোরম পরিবেশে হাঁটা।

পারলে বিকাল বেলায় ও হাঁটতে পারেন। এর ফলে ব্রেইন যথেষ্ট বিনোদন নিতে পারে এবং অনেক রিলেক্স থাকতে পারে।

কিছুটা সময় বিভিন্ন মানসিক সমস্যা বা কাজের চাপ থেকে বিরত থাকতে পারলে, ব্রেইন অনেক সতেজ হয় এবং স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে।

৭. ঘুম বাড়ায়

আপনি কি ঘুমের জন্য সংগ্রাম করছেন অথবা নিদ্রাবিহীন রাত যাপন করে চলেছেন?

প্রতিদিন ব্যায়াম করার উপকারিতা : ঘুম বৃদ্ধি

প্রতিদিন সকাল কিংবা বিকেলে পরিমিত ব্যায়াম হতে পারে সুনিদ্রা আনয়নের বড় ঔষধ।

পরিমিত ব্যায়ামের ফলে শুলেই আপনার দুচোখজুড়ে ভর করবে রাজ্যের ঘুম। সেইসঙ্গে বেড়ে যাবে আপনার ঘুমের গাঢ়তা— যদিও বিছানায় যাওয়ার ঘণ্টা দুই আগে অতিরিক্ত ব্যায়াম ঘুম আনতে সহায়ক নয়।

আপনি যদি নিদ্রাহীনতায় ভুগে থাকেন তবে প্রাত্যহিক সকালে কিংবা বিকেলে পরিমিত ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।

আর একটি রাতের সুনিদ্রা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে আপনার কাজের একাগ্রতা ও উৎপাদনশীলতা। দেহে ও মনে জেগে উঠবে আনন্দের ভাব।

৮. কর্মস্পৃহা বাড়ায়

প্রতিদিন গৃহস্থালি টুকিটাকি কাজ কিংবা মুদি দোকানে কেনাকাটায় বিরক্ত হলেও হতাশ হবেন না। বরং দৈনিক পরিমিত ব্যায়ামে আপনার দেহ ফিরে পাবে নতুন প্রাণ।

নব শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠবে দেহ। আপনি ফেলবেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। নব উদ্যমে খেলা করবে আপনার দেহ ও মন।

পরিমিত দৈনিক ব্যায়াম আপনার দেহের সমগ্র কোষকলার স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

হৃৎপিণ্ডসহ আপনার সমগ্র রক্ত সংবহন তন্ত্র হয়ে উঠবে আরো অধিক ক্রিয়াশীল। শ্বাসতন্ত্রের কাজে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা; ফলে এই দুই তন্ত্রের আরো অধিক কার্যকারিতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে আপনার কাজের উৎসাহের মাত্রা।

৯. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

ওজন নিয়ন্ত্রণ করার অন্যতম ও কার্যকরী উপায় হচ্ছে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা।

অনেকেই ওজন কমানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের উপায় অবলম্বন করে থাকে।

সব উপায় গুলোর মধ্যে ২ টাই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী:

  • খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা করা।

যদি সকালে ৩০ মিনিট এবং বিকালে ৩০ মিনিট জজ্ঞিং করেন, জিমে যান বা হাঁটেন তাহলে, ওজন অনেকটা কমে আসবে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করলে শরীর স্বাস্থ্য উন্নত হয় ও যথেষ্ট পরিমাণে ভালো থাকবে।

১০. মন চাঙ্গা

ব্যায়াম করার ফলে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক পদার্থ বের করে দেয়। এইসব রাসায়নিক উপাদান চিও প্রফুল্ল রাখে।

চিও প্রফুল্ল পাশাপাশি চেহারার উজ্জ্বলতা ও লাবণ্য বাড়ায়। তাই মন চাঙ্গা বা মন ফুর ফুরে রাখতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

## আরও

উপরের ব্যায়ামের উপকারিতা ছাড়াও আরোও অনেক উপকারিতা রয়েছে।

যেমন : স্টোক এর ঝুঁকি কমায়, বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, বাড়তি চর্বি কমায়, হৃদপিণ্ড ও রক্তনালির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। 

বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে দেহকে সুরক্ষিত রাখে।

শরীর সুস্থ ও সবল রাখে। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে ও রোগ থেকে বাচঁতে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।

প্রতিদিন আমাদের নিয়ম করে ব্যায়াম করা উচিৎ। যতি আমরা সুস্থ ও প্রাণোজ্জল থাকতে পারি।

Leave a Comment