লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা কি। লবঙ্গ এর পুষ্টিগুণ

লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা অনেক; প্রতিদিন খালি পেটে লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে উপকারীতা অনেক।

তবে লবঙ্গের ইউজেনলের গুণাগুণ অনস্বীকার্য। তবে মাথায় রাখবেন, এটি বেশ টক্সিক একটি উপাদান। অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে যকৃতের ক্ষতি হতে পারে।

এ জন্য নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেতে হবে। ১৫ বছরের নিচের শিশুদের আলাদা করে লবঙ্গ বা এর চা থেকে দূরে রাখুন।

তো চলুন দেখে নেয়া যাক,

লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা

দাঁতের নানা সমস্যার সমাধানে

দাঁতের ব্যথা দূরকরনে লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা অনেক । মাড়ির ক্ষয় নিরাময় করে। লবঙ্গতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু বিক্রিয়া করে যে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যায়।

তাছাড়া এটি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে। আর আমাদের এই উপমহাদেশে দাঁতে সামান্য ব্যথা হলেই দাদি–নানিরা লবঙ্গ খেতে বলতেন।

এতে নাকি ব্যথার উপশম হয়। নানা রকমের পরীক্ষা–নিরীক্ষা করার পর এর সত্যতা মিলেছে। প্রায় সব টুথপেস্টের কমন উপকরণ এই লবঙ্গ।

লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা: বমি বমি ভাব দূর করে

লবঙ্গ মুখে রাখলে বা জলের সঙ্গে কয়েকটা লবঙ্গ মিশিয়ে খেলে আপনার বমি বমি ভাব দূর হবে।

ট্রেনে বা বাসে যাওয়ার সময় যদি মাথা ঘুরতে থাকে ও বমি এসে যায়, তাহলে মুখে একটি লবঙ্গ রেখে সেই রস চুষলে বমি ভাব ও মাথা ঘোরা কমে যাবে।

গর্ভবতী মায়েরা সকালের বমিবমি ভাব দূর করতে লবঙ্গ চুষতে পারেন। লবঙ্গ বমিবমি ভাবদূর করে।

জ্বর ও মাথা যন্ত্রণা কমায়

ধোঁয়া, রোদ এবং ঠান্ডার জন্য শ্লেষ্মা বেড়ে নানা ধরনের মাথা ব্যথা বা মাথার রোগ দেখা দিতে পারে। মাথা ব্যথা কমাতে লবঙ্গের উপকারিতা অপরিসীম।

হাল্কা গরম জলে ২-৩ টি লবঙ্গ চিবিয়ে খেয়ে নিন। ভাইরাল ফিভারে বা সিজনাল জ্বরে কাজে দেবে।

খাদ্যে বিষক্রিয়া নষ্ট করতে

অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অনেকেই মাঝেমধ্যে বিষক্রিয়ার সম্মুখীন হন। এ সময় লবঙ্গ খেলে দ্রুতই উপকার পাওয়া যায়।

এতে বিদ্যমান ইউজেনল একটি শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান।

এটি খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী ই কোলাই, স্টেপটোকক্কাস, স্ট্যাফিলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া মারতে সহায়তা করে।

সাইনাস ইনফেকশনের প্রকোপ কমায়

সাইনোসাইটিস রোগে লবঙ্গ খুব উপকারি। সাইনোসাইটিসের রোগীদের চিকিৎসায় লবঙ্গ ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

লবঙ্গে বিদ্যমান ইগুয়েনাল নামে একটি উপাদান আছে, যা সাইনাসের কষ্ট কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মানষিক চাপ দূর করে

লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা হল এটি আপনাকে মানষিক চাপ থেকে দূরে রাখবে।

পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে শিথিল রাখতে সাহায্য করে। লবঙ্গের সঙ্গে তুলসি পাতা, পুদিনা পাতা ও দারচিনি মিশিয়ে আপনি ফ্লেভার্ড চা তৈরি করতে পারেন।

হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

হজমে সহায়তা করে এমন এনজাইমনিঃসরণের মাধ্যমে এবং অ্যাসিড ক্ষরণের মাধ্যমে লবঙ্গ আমাদের হজম ক্ষমতা সক্রিয় করে তোলে।

এরাফ্লাটুলেন্স, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, ডিসপেপসিয়া এবং নসিয়া কমাতে সাহায্য করে। এটি শরীরের রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটায়।

ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না।

গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, লং এর রস শরীরের ভিতরে ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে ও কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, এবং রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শকর্রার মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যায়। নিয়মিত লবঙ্গ খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।

লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা: ত্বকের সংক্রমণ

আসলে লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়।

সেই সঙ্গে জীবাণুদেরও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণ জনিত কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না। ঘা পচড়া হতে পারবে না।

খাবারে রুচি বৃদ্ধি করে

বিভিন্ন রোগ বিশেষ করে পেটের রোগে এবং জ্বরে ভোগার পরে খাবারে অরুচি দেখা দেয়।

ভাত-রুটি, মাছ-মাংস, মিষ্টান্ন বা যে কোন উপাদেয় খাবারে পর্যন্ত রুচি হয় না সেক্ষেত্রে লবঙ্গ চুর্ণ সকালে খালি পেটে দুপুরে খাবারের পরে খেলে খাবারে রুচি ফিরে আসবে।

লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা ++

লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি; তার ভিতর কিছু উপকারিতা সরাসরি মানে খাওয়ার পরপরই পাবেন। আবার লবঙ্গ খাওয়ার কিছু উপকারিতা পাবেন অনেক দেরিতে।

যেগুলো দেরিতে পাওয়া যায় তা হল:-

লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা: হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায়

লো বোন মাস বা হাড়ের কম ঘনত্ব এমন একটি অবস্থা, যা বয়স্কদের অস্টিওপরোসিস রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে, ইউজেনল হাড়ের ঘনত্ব বাড়িয়ে এটি মজবুত করে থাকে। এ ছাড়া লবঙ্গ ম্যাঙ্গানিজের উৎকৃষ্ট উৎস।

ক্যালসিয়ামের মতো এটিও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী।

ক্যানসার প্রতিরোধে

লবঙ্গ অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের আধার। ইউজেনল একটি শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ভিটামিন ই–এর চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি কার্যকরভাবে শরীরে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ফলে হওয়া অক্সিডেটিভ ক্ষতি থামাতে পারে।

অক্সিডেটিভ ক্ষতির কারণে ক্যানসার হয়ে থাকে।

লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়

লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের মধ্যে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুধু লিভার নয়, শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রসঙ্গত, এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে একাধিক হেপাটোপ্রটেকটিভ প্রপার্টিজও রয়েছে, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

লবঙ্গ তেলের উপকারিতা

লবঙ্গতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান যা স্বাস্থ্যরক্ষায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে সেই আদি যুগ থেকেই।

ঠাণ্ডা, কাশি ও দাঁত ব্যথা উপশমে লবঙ্গের জুড়ি নেই। বেশিরভাগ টুথপেস্টেই থাকে উপকারী লবঙ্গ তেল।

স্বাস্থ্যরক্ষার পাশাপাশি রূপচর্চাতেও লবঙ্গ তেল খুবই কার্যকরী। এতে থাকা পটাসিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি ত্বককে করে উজ্জ্বল ও সুন্দর।

এছাড়া ব্রণ ও ব্রণের দাগও দূর করতে পারে লবঙ্গ তেল।

আসলে লবঙ্গ তেল ও লবঙ্গর উপকারিতা সমান।

লবঙ্গ এর পুষ্টিগুণ

লবঙ্গের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো অ্যাসিটাইল ইউজেনল, বেটা-ক্যারোফাইলিন, ভ্যানিলিন, ক্র্যাটেগলিকঅ্যাসিড, ট্যানিন, গ্যালোট্যানিক অ্যাসিড, মিথাইল স্যালিসাইলেট, ফ্ল্যাভানয়েড, ইউজেনিন, র্যা ম্নেটিন, ইউজেনটিন, ট্রি-টেরপেনয়েড, ক্লিনোলিক অ্যাসিড, স্টিগ্মাস্টেরল, সেস্কুইটার্পিন।

USDA এর রেফারেন্স অনুসারে ১০০ গ্রাম লবঙ্গে ৬৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৩ গ্রাম টোটাললিপিড, ২ গ্রাম সুগার, ২৭৪ কিলো-ক্যালোরি শক্তি ও ৩৩ গ্রাম ডায়েটারিফাইবার থাকে।

খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক –কমবেশি সবই আছে।

আর ভিটামিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বি-৬, বি-১২, সি, এ, ই, ডি, কে, থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ফোলেট রয়েছে। এই সব যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য আছে।

লবঙ্গ বেশি খেলে কি হয়?

তবে লবঙ্গের ইউজেনলের গুণাগুণ অনস্বীকার্য। তবে মাথায় রাখবেন, এটি বেশ টক্সিক একটি উপাদান। অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে যকৃতের ক্ষতি হতে পারে।
এ জন্য নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেতে হবে। ১৫ বছরের নিচের শিশুদের আলাদা করে লবঙ্গ বা এর চা থেকে দূরে রাখুন।

রাতে লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা কি?

রাতে বা দিনে লবঙ্গ তেল খাওয়ার উপকারিতা সমান। কারন রাতে তো আর লবঙ্গের গুণাগুনের কোনো পরিবর্তন হয় না্
তবে রাতে লবঙ্গ খেলে লবঙ্গের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ অল্প লবঙ্গ বেশি কাজ।

Leave a Comment