সকালে ব্যায়াম করার আগে কি খাওয়া উচিত

মনে রাখতে হবে কখনও খালি পেটে ব্যায়াম করা উচিৎ না। সকালে ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই খাবার খেয়ে নিতে হবে।

কারন সকালে হাটা বা ব্যায়ামের ফলে যে ক্যালরি loos হয় যদি খালি পেট থাকে তাহলে কিডনি, হার্টের উপর চাপ পড়ে।

এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে হাটতে বা সকালে ব্যায়ামের কমপক্ষে ১৫-২০/৩০ মিনিট আগে খেতে হবে। আবার ব্যায়ামের ২০/৩০ মিনিট পর খেতে হবে।

ব্যায়াম এর ৪৫ মিনিট এর মধ্যে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শোষণ হয়। খাবার যেন সুষম হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

Muscle বানাতে চাইলে বেশী প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে। চেষ্টা করবেন natural resource থেকে খাবার নিতে।

বাজারে whey Protien বা milk shake পাওয়া যায়। এগুলো কিডনির জন্য ক্ষতিকারক আর ইউরিক এসিড বাড়িয়ে দেয়।

আর যদি সকালের ব্যায়াম ওজন কমানোর জন্য হয়, তবে ফ্যাট কমাতে হবে এবং সবজি, ফল ও প্রোটিন বাড়াতে হবে; পানি বেশী খাবেন, না হলে পানি শূন্যতা দেখা দিবে এবং ব্যায়ামের সময় অবশ্যই সাথে পানি রাখুন।

ব্যায়ামের আগে ও পরে খাবার মেনে চলুন। ব্যায়াম যেমন আপনাকে সুস্থ রাখব; তেমনি সঠিক উপায়ে ডায়েট ব্যালেন্স আপনার সুস্থতা নিশ্চিত করবে অনেকগুণে।

সকালে ব্যায়াম করার আগে ২০-৩০ মিনিট আগে অবশ্যই খাবার খেয়ে নিতে হবে। তবে খাওয়ার সাথে সাথে ব্যায়াম করবেন না।

খাওয়ার ২০-৪০ মিনিট পরে ব্যায়াম করতে নামা উচিৎ।

সকালে ব্যায়াম করার আগে কি খাওয়া উচিত নয়

সকালে ব্যায়াম করার আগে কি খাওয়া উচিত
সকালে ব্যায়াম করার আগে কি খাওয়া উচিত

উচ্চ প্রোটিন ও চর্বি

যারা নিয়মিত ব্যায়াম করছেন তারা প্রোটিন বারের মতো চিনি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেয়ে অভ্যস্ত। তবে ব্যায়াম শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এমন খাবার এড়িয়ে চলতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রেড মিড তথা বিফ, মাটন বা এ জাতীয় প্রোটিনে ভরপুর মাংস খেয়ে ব্যায়াম শুরু না করাই ভালো। কারণ এগুলোর পেছনে শরীরটাকে অনেকটা শক্তি ব্যয় করতে হয়।

চর্বিকে শক্তিকে রূপান্তর করার সময় যদি ব্যায়াম করে শরীরে বাড়তি চাপ তৈরি করেন তাতে হজমে দেখা দেবে সমস্যা।

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার

ফাইবার শরীরের জন্য বেশ উপকারী। বিশেষ করে ব্রকোলি, ওটস, ফুলকপি, ডাটা শাকসহ আরও অনেক সবজিত ফাইবার আছে।

কিন্তু ব্যায়ামের আগে এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা; কারণ এসব খাওয়ার পর শরীরের ওপর খাটনি গেলে ফাইবারটা ঠিকঠাক শোষণ করতে পারবে না শরীর।

দই

বিশেষ করে মিষ্টি দই একেবারেই খাওয়া ঠিক হবে না।

দুগ্ধজাত অন্য খাবারও এড়িয়ে চলতে হবে ব্যায়ামের আগে। তা না হলে দেখা দেবে ব্লোটিং তথা পেট ফাঁপার সমস্যা।

স্বাস্থ্যকর পানীয় ও ফাস্টফুড

যারা ব্যায়াম করেন তারা তো এমনিতেই অস্বাস্থ্যকর পানীয় এড়িয়ে চলেন। তথাপি, উচ্চ ক্যালরিযুক্ত স্মুদিও কিন্তু শরীরচর্চার আগে খাওয়া বারণ। ক্যালরি ও চিনি থাকার কারণে এ তালিকায় আছে ফাস্টফুড ও এনার্জি ড্রিংকও।

খাবেন কী?

তাই বলে খালিপেটে কিন্তু ব্যায়াম করতে বলা হয়নি। যতটা সম্ভব হালকা নাস্তা করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আর এ তালিকায় অনায়াসে রাখতে পারেন একটা বড় সাইজের কলা, পিনাট বাটার, কিছু ক্র্যাকার, এক মুঠো বাদাম বা কিশমিস ও একটা সেদ্ধ ডিম। খাবারগুলো খেতে হবে ব্যায়াম শুরুর অন্তত ১-৩ ঘণ্টা আগে।  

কোন ব্যায়ামের জন্য কি খাবার খাবেন আর কি খাবেন না।

শুধু শরীরচর্চা করলেই হবে না, সঙ্গে খাবার খেতে হবে বুঝেশুনে।

দ্রুতগতির ব্যায়াম

সকালে ব্যায়াম করার আগে কি খাওয়া উচিত

দ্রুতগতির ব্যায়াম যেমন দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, অ্যারোবিক্স ইত্যাদিকে বলা হয়।

আগে: কার্ডিও ব্যায়াম শুরু করার কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে খেতে হবে কম চর্বি আর বেশি কার্বোহাইড্রেইট আছে এমন খাবার। একটি কলা, এক গ্লাস দুধ বা এক মুঠ কাঠবাদাম হতে পারে আদর্শ পছন্দ।

পরে: এই সময় শরীরে চাই পুষ্টি, যাতে তার কর্মক্ষমতা কমে না যায়। তাই আমিষ ও কার্বোহাইড্রেইট এসময়ের জন্য ভালো।

এতে পেশির ব্যথা কমবে। পানীয়র ক্ষেত্রে কফির পরিবর্তে বেছে নিতে পারেন কম ননিযুক্ত দুধ, ডাবের পানি ইত্যাদি।

সার্কিট ট্রেইনিং

এ ধরনের ব্যায়াম মাংসপেশির শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন পেশিগুচ্ছের প্রভাব ফেলে। কারণ এসব ব্যায়ামে কয়েকটি ব্যায়াম অল্প বিরতি দিয়ে দ্রুত করতে হয়।

আগে: কার্বোহাইড্রেইটের উপর বেশি আর আমিষের উপর কম মনোযোগ দিতে হবে। আপেল ও কলা এক্ষেত্রে সবচাইতে উপযুক্ত। এছাড়া ব্যায়াম শুরু করার প্রায় ৪৫ মিনিট আগে শুকনা ফল খেতে পারেন।

পরে: এই সময়ের খাবারে চর্বি থাকবে কম। তাজা সালাদ, স্মুদি, প্রোটিন শেইক কিংবা ফল খেতে পারেন।

স্ট্রেংথ ট্রেইনিং

অনেকগুলো ব্যায়ামের সমষ্টি হতে পারে। যা মাংসপেশী সংকোচন প্রশারণ করে শরীরচর্চা করা হয়।

এরমধ্যে ‘বুকডন’, ‘ওয়েট লিফ্টিং’ বা ভারি ডাম্বল নিয়ে এই ব্যায়াম করা হয়। যা পেশির শক্তি ও ভার বহনের ক্ষমতা বাড়ায়।

আগে: এই ব্যায়ামের এক ঘণ্টা আগে আমিষ ও কার্বোহাইড্রেইটযুক্ত খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। ফলে দ্রুত ক্লান্তি বোধ করবেন না। পেশির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।

পরে: এই ব্যায়েম শরীরের উপর বেশ ধকল পড়ে। তাই ধকল সামলাতে শরীরকে দিতে হবে সঠিক খাবার। ‘ঘাল বা ছানা দিয়ে তৈরি প্রোটিন শেইক’ কিংবা ‘এনার্জি বার’ খেতে পারেন

Leave a Comment